ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ২নং মির্জাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক সাজ্জাদ মন্ডল এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানটি চুরি যাওয়ায় কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
জানা গেছে, মঙ্গলবার আনুমানিক ভোররাতে সাজ্জাদ মন্ডলের নিজ বাড়ি থেকে তার ভ্যানটি চুরি হয়। ধারদেনা করে কেনা এই ভ্যানের ওপর নির্ভর করেই চলত তার ছয় সদস্যের পরিবার। প্রতিবন্ধী মা, স্ত্রী ও তিন নাবালক সন্তান নিয়ে প্রতিদিনের আয় দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালাতেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাজ্জাদ মন্ডল বলেন, “আমার বসতবাড়ি ছাড়া কোনো জায়গা-জমি নেই। ধার করে ভ্যান কিনেছিলাম। এই ভ্যানই ছিল আমার সব। এখন সেটাও নেই। আমি বুঝতে পারছি না কীভাবে মা, বউ আর বাচ্চাদের নিয়ে চলব। আবার ভ্যান কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। আল্লাহ জানেন সামনে কী আছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমোদ আলী বলেন,“সাজ্জাদ খুবই অসহায় একটি ছেলে। বাবা নেই, প্রতিবন্ধী মা ও ছোট ছোট সন্তান নিয়ে সে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাত। ভ্যান চুরি হওয়ায় সে একেবারে পথে বসেছে। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে এই পরিবারটি বেঁচে থাকার একটা সুযোগ পাবে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আনু মোল্লা বলেন, “সাজ্জাদের ভ্যান চুরির ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত। এমন একজন গরিব মানুষ কীভাবে চলবে, সেটা ভাবতেই কষ্ট হয়। আমরা সবাই মিলে তার জন্য সহযোগিতা চাই।”
এদিকে মথুরাপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ত্রিবেণী ইউনিয়নের পদমদি গ্রামেও সম্প্রতি একের পর এক ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই অন্তত ১০টি ভ্যান চুরি হয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এসব চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। তারা দ্রুত চোর চক্র শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।